রেজিঃ নং চ-৫৫১
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাশ :
ডামুড্যায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত। গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ : লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচারের দাবি গোয়াইনঘাটে ফারুক আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন উর রশীদের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নিহত ও আটক ১ জন বিছনাকান্দি সীমান্তে অপরাধ দমনে ৪৮ বিজিবির জনসচেতনতা মূলক সভা সুন্দরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরঙ্গনা জোহরা বেগমের দাফন সম্পন্ন গোয়াইনঘাটে চোরাই তিন গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ ছাতকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত। গোয়াইনঘাটে মাদকমুক্ত আলীরগ্রাম গড়তে যুব সমাজের উদ্যোগে বৈঠক, শনিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সিলেট মহানগর কমিটিতে গোয়াইনঘাটের ৫ সাংবাদিক

বর্তমান সরকার জনবান্ধব: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সমালোচনা করতে হলে তা হতে হবে সত্য ও ন্যায়সংগত।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জেটেব) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেটেবের সভাপতি ফখরুল আলম।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ এ ধরনের অপপ্রচার বিশ্বাস করবে না। কোনো উদ্যোগের সমালোচনা করতে হলে তা তথ্যভিত্তিক ও ন্যায়সংগত হওয়া প্রয়োজন।

ফ্যামিলি কার্ডের সুফল তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের অভিমত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কমে যাবে। এ ধরনের উদ্যোগের ইতিবাচক দিক বিবেচনা না করে মিথ্যা প্রচার চালানো দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়।

কৃষক কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের হাতে মাসে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ কৃষিঋণ এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, এসব ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নেওয়া এসব উদ্যোগের ইতিবাচক দিক বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

দেশে সারের সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সারের জাহাজ মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। সৌদি আরব থেকেও সারবাহী জাহাজ আসছে।

তিনি বলেন, সামনে শীতকালীন শাকসবজির মৌসুম। এসময় আলু, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ হয়। এসব ফসলের জন্য সারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সার কারখানা চালু রাখতে গ্যাসের প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে রান্নার চুলা চালাতেও গ্যাস লাগে। ফলে গ্যাসের সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সংকটের মধ্যেও সরকার দিনরাত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, একটি গণবান্ধব সরকারের নীতি হলো জনগণের দুঃখ-কষ্ট বিবেচনা করে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অতীতের সরকারের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতে সরকার বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। সেসময় মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তোলা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা জনগণের কাছে সত্য কথা বলে এবং সত্য অঙ্গীকার করে, তাদের পালিয়ে যেতে হয় না। জনগণের সমর্থন নিয়েই তাদের টিকে থাকতে হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, তার শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেসময় জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

আদালত ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।


এ বিভাগের আরো খবর