রেজিঃ নং চ-৫৫১
সুনামগঞ্জের ছাতকে দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে পৃথকভাবে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দশমীর সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে বেজে ওঠে দেবী দুর্গার বিদায়ের সুর। ভক্তদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ বছর ছাতক উপজেলায় ৩০টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছাতক পৌর শহরের কুমনা রাখাল তলা পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিকেল ৪ টার দিকে ছাতক পৌর শহরের বিউটিফিকেশন চাঁদনী ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমে শহরের মন্ডলীভোগের চৈতন্য সংঘ, হাসপাতাল রোডের ত্রীনয়নী পূজা মন্ডপ, মন্ডলীভোগস্হ কালীবাড়ি পূজা মন্ডপ, বাগবাড়িস্হ শিববাড়ি পূজা মন্ডপ, রেলওয়ে কলোনী মাঠের মহামায়া পূজা মন্ডপ ও উপজেলার জাতুয়া পূজা মন্ডপসহ উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ছাতক পৌর শহরের বিউটিফিকেশন চাঁদনীঘাটে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। আনন্দ, আবেগ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।
হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের ভেতরের অসুরিক প্রবৃত্তি-কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা পরিত্যাগ করাই বিজয়া দশমীর মূল শিক্ষা। পাশাপাশি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে এ উৎসব।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ছাতক উপজেলা ও পৌরসভা এবং থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ মহি উদ্দিন জানান, এ বছর ছাতক উপজেলা ও পৌরসভায় ৩০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে ৮ টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২২টি মণ্ডপের প্রতিমা বিভিন্ন ইউনিয়ন পৌর শহরে মন্ডপের প্বার্শবর্তী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা ও পৌরসভা এবং থানা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ছাতক থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ কামাল হোসেন পিপিএম জানান ছাতক থানায় যোগদান করে পেয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয়া দূর্গোৎসব। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখতেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আইনশৃংখলা নিয়ে কুশলবিনিময় করেন।
আইনশৃংখলা যাতে অবনতি না হয় সে দিকেই নজর রাখতেন। তিনি আরও বলেন পুলিশের পোষাকদারির সাথে সাদা পোষাকদারি পুলিশও রয়েছিলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বজনীন দূর্গা পূজা কে নিরাপত্তায় বেষ্টিত।