রেজিঃ নং চ-৫৫১
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাশ :
ছাতকে গ্রাম পুলিশদের মাঝে বাইসাইকেল পোশাক ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বিতরণ ছাতকের পাগল হাসান চত্বরে হাজী কাঁচা মিয়া প্যালেসে বনফুলের নতুন শাখার উদ্বোধন ডামুড্যায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত। গাইবান্ধায় জামায়াতের বিক্ষোভ : লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচারের দাবি গোয়াইনঘাটে ফারুক আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন উর রশীদের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নিহত ও আটক ১ জন বিছনাকান্দি সীমান্তে অপরাধ দমনে ৪৮ বিজিবির জনসচেতনতা মূলক সভা সুন্দরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরঙ্গনা জোহরা বেগমের দাফন সম্পন্ন গোয়াইনঘাটে চোরাই তিন গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ ছাতকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত।

হবিগঞ্জে ঘুষ কাণ্ডের ৩টি ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

চুনারুঘাট থানায় ঘুষ কাণ্ডের ৩টি ঘটনায় পুলিশের এক এসআইসহ ৪ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ গত দুই দিনে ঘুষ গ্রহন ও ঘুষের পক্ষে বক্তব্য রাখায় এএসআই ইলিয়াছ হোসেন ও অতনু বণিককে প্রত্যাহার এবং ২৪ সেপ্টেম্বর বাবা-মেয়েসহ একই পরিবারের ৩জনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে একই থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করা হয়। এসব ঘটনায় টক অব দ্যা ডিস্ট্রিক্ট-এ পরিণত হয়েছে।
এদিকে, পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনার দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। তবে সচেতন মহল বলছেন, চুনারুঘাট থানায় একের পর এক ঘটনাটি নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে অভিযুক্তরা ব্যক্তিগতভাবে এমনটা করছেন নাকি এর পিছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে?। পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কি এমনটা করা হচ্ছে? বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখা উচিত।
সূত্র জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বাবা মেয়েসহ তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠে চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুনের বিরুদ্ধে। পরে এলাকাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে থানা ঘেরাও করলে ৭ ঘন্টা পর আটককৃতদের মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চুনারুঘাট থানার এএসআই ইলিয়াস হোসেন ঘুষের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পোষাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’। তার ওই বক্তব্যটি গত ৫ অক্টোবর  ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনা দেখা দেয়। এ ঘটনার  ৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে থানার ভিতরে পুকুরপাড়ে এএসআই অতনু বণিকের ঘুষ গ্রহণের  একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে এটি ভাইরাল হয়। ভিডিওতে শুনা যায়, একটি মামলা সংক্রান্ত  বিষয়ে এক ব্যক্তির কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন এএসআই অতনু বণিক। এতে দুবারে ওই ব্যক্তি এএসআই অতনু বণিককে ১০ হাজার  টাকা প্রদান করেন। পরে তিনি আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের কথা বলে আরও ২ হাজার টাকা দাবী করেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে বিকেলের মধ্যেই তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
মাত্র ১১ দিনের মধ্যে থানায় পরপর তিনটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এমন কর্মকান্ডে পুরো জেলার পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেল) মাফিউর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তদের ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। যাচাই-বাছাই করে এসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিভাগের আরো খবর